09 June 2020

শারীরিক শিক্ষা ও তার ভুমিকা


১। ভূমিকা

অঙ্গ সঞ্চালন ও খেলাধুলা শিশুর সহজাত প্রবৃত্তি। স্বাধীনভাবে দৌড়াদৌড়ি ও খেলাধুলা করে সে প্রচুর আনন্দ অনুভব করে। সুযোগ ও অবসর পেলেই সে খেলায় মেতে ওঠে। খেলাধুলার প্রতি শিশুর এ স্বাভাবিক ও অফুরন্ত আগ্রহকে সুষ্ঠুভাবে ও সঠিক পথে পরিচালনা করে তাকে ব্যক্তি ও সমাজের কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। শারীরিক শিক্ষা ব্যতিরেকে শিশুর দেহ ও মনের সার্বিক বিকাশ সম্ভব নয়। তাই শারীরিক শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

‘সুস্থ দেহে সুন্দর মন’ সুখী জীবনযাপনের জন্য অত্যাবশ্যক। সুস্থ মনের অধিকারী স্বাস্থ্যবান মানুষই নাগরিক দায়িত্ব ও ধর্মীয় বিধিবিধান ভালভাবে পালন করতে পারে। তাই সুন্দর ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ‘শারীরিক শিক্ষা’ অপরিহার্য।

ব্যবহারিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির সাথে সাথে শিশুর স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ ও স্বাস্থ্য গঠনের জন্য ব্যায়াম, খেলাধুলা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, চিত্তবিনোদন ও সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করে প্রাথমিক শিক্ষার ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়টির অর্জন উপযোগী ও প্রান্তিক যোগ্যতা চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য রক্ষা সম্পর্কে সমাজ সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়নেও যাতে এই বিষয়ের পঠন-পাঠন কাজে লাগে- সে দিকটিও বিবেচনা করা হয়েছে। শিশুর ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুণাবলি, যেমন- শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, শিষ্টাচার, দলনেতার প্রতি আনুগত্য, শ্রমের প্রতি মর্যাদা ইত্যাদি বিকাশের দিকে সমধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা শারীরিক শিক্ষার নির্ধারিত প্রান্তিক যোগ্যতার (জ্ঞান, দক্ষতা ও বাঞ্ছিত দৃষ্টিভঙ্গি) কোন শ্রেণীতে কতটুকু অর্জন করতে পারবে তৎজন্য একটি আবশ্যকীয় ‘শিখনক্রম’ রচনা করা হয়েছে।

আশা করা হয়েছে যে, এই শিখনক্রম অনুসরণে অনুশীলনের মাধ্যমে বিষয়টির পঠন-পাঠন পরিচালনা করা হলে শিশুরা এ বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও বাঞ্ছিত দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগাতে পারবে এবং এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষা সার্থকরূপ লাভ করবে।

২। উদ্দেশ্য

ক)        শিশুর দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে সুসমন্বিত ব্যক্তিত্ব গঠন করা।

খ)         বহুবিধ শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে শিশুর সহজাত শারীরিক দক্ষতা ও সম্ভাবনাময় প্রতিভার উন্মেষ ঘটানো।

গ)         দক্ষতার সঙ্গে অঙ্গ সঞ্চালন ও নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম কলাকৌশল অর্জনে সাহায্য করা।

৪৩২

ঘ)         শিক্ষার্থীর শারীরিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা দান।

ঙ)         শিশুর মনে সৎসাহস ও দলীয় একাত্ববোধ জাগানো।

চ)         খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্রাম ও আনন্দ উপভোগে উৎসাহী করা।

ছ)         শিশুর পর্যবেক্ষণ ও বিচার ক্ষমতার উন্মেষ ঘটানো।

জ)        শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সামাজিক কর্তব্যবোধ ও দেশাত্ববোধ জাগ্রত করা।

ঝ)        শিশুর কল্পনা, উদ্ভাবন ও সৃজন শক্তির বিকাশ ঘটানো।

ঞ)       শিশুর মানসিক সচেতনতা তীক্ষ্ম করা।

ট)         জাতির ঐতিহ্য ও কৃষ্টির প্রতি মর্যাদাবোধ জাগানো।

৩। প্রান্তিক যোগ্যতা

১)         স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গঠন করা এবং পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা।

২)         খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও ব্যায়ামের নিয়মাবলি জানা ও বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা।

৩)        চিত্ত বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা।

৪)         শৃঙ্খলাবোধ, একাত্ববোধ, নেতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নেতার আদেশ মেনে চলা, সহনশীলতা প্রদর্শন ও নেতৃত্বদানের গুণ অর্জন করা।

৫)         সুস্থ দেহ ও মন গঠনের জন্য পরিমিত ঘুম, ব্যায়াম, খেলাধুলা, বিশ্রাম ও বিনোদনের গুরুত্ব বুঝা এবং এ সম্পর্কিত নিয়মাবলি মেনে চলা।

৬)        দেহগঠনে ও স্বাস্থ্য রক্ষায় সুষম খাদ্যের গুরুত্ব বুঝা এবং এরূপ খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করা।

৭)         দৈনন্দিন জীবনে দুর্ঘটনা এড়াবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানা ও বাস্তবে মেনে চলা।

৮)        প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানা ও বাস্তবে কাজে লাগাতে পারা।

No comments:

Featured Post

Castle best for movies application

Click this secure link, download the APK https://filmm.me/6CPsrsqM