পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাস নিয়ে নাজেহাল। অর্থনীতি থেকে উৎসব সব কিছুতেই মরণকামড় বসিয়েছে করোনা।
এরইমধ্যে সকলকে সতর্ক করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানী মাইকেল গ্রেগর।তিনি জানিয়েছেন, মুরগির খামার থেকেও এমন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা কিনা করোনার চেয়েও ভয়ঙ্কর মহামারির সৃষ্টি করতে পারে।বিজ্ঞানী মাইকেল গ্রেগর তার নতুন বই ‘হাউ টু সারভাইভ এ প্যান্ডামিক’এ বলেছেন, বেশি পরিমাণে মুরগি খামার তৈরি হওয়ার ফলে সংক্রমণ বেড়ে গেছে। তিনি মানুষকে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।পাশাপাশি তার দাবি, এই ভাইরাস এতটা বিপজ্জনক যে অর্ধেক পৃথিবী বিপদের মুখে পড়তে পারে।
নজরে রাখার বিষয় হল মাইকেল গ্রেগরের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ সম্পর্কিত কোনও প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, বা অন্য কোনও বিজ্ঞানীও তার দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি।কিন্তু মাইকেল গ্রেগের দাবি, অন্য জীবের সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরেই মানুষ বিপদে পড়তে পারে।
এখন অবধি পাওয়া তথ্য স্পষ্ট বলেছে, বাদুড় বা অন্য কোনও প্রাণীর দেহ থেকে করোনা মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে। এই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ চীনের উহানের প্রাণী বাজারকেই দায়ী করছে।
মাইকেল গ্রেগর বলছেন, মাংস খাওয়ার কারণে মানুষ মহামারিতে আক্রান্ত হয়। তবে বিশ্বের অন্যান্য বিজ্ঞানীরা মুরগি খামার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলেননি। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের পরে অনেক দেশের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বন্য প্রাণীর বাজার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
অনেক দেশ চীনের কাছে পশুর বাজার বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে। জানা গেছে, চীনও বন্যপশু হত্যা করে তা বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে।
প্রসঙ্গতঃ বলে রাখি, এর আগে করোনা আতঙ্কে এবার বড়সড় চাপের মুখে রাজ্যের পোলট্রি শিল্প। আমজনতা চিকেন এড়িয়ে চলায়, ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রে কয়েক’শো কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ বার সেই ক্ষতির তালিকায় নাম জুড়েছে পশ্চিমবঙ্গেরও। ইতিমধ্যেই আর্থিক ক্ষতির পরিমান ৩০০ কোটি ছাড়িয়েছে।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রকম খবর ছড়াচ্ছে নেটদুনিয়ায়। যার অধিকাংশই ভিত্তিহীন।সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ ছড়িয়েছেন, ব্রয়লার মুরগি থেকে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে। কিছু ভুয়ো ভিডিয়োও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যা দেখে সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি ফেডারেশনের বক্তব্য, মুরগির সঙ্গে করোনার যে সম্পর্ক নেই, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে। তবুও লোকে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। ফলে, চাহিদার তেমন উন্নতি হয়নি। রাজ্যের কাছেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
ফেডারেশনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, গুজবের জেরে শেষ তিন সপ্তাহে রাজ্যে জ্যান্ত ব্রয়লার মুরগির বিক্রি কমেছে ৪০ শতাংশ। গোটা মুরগির পাইকারি দাম ঠেকেছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। যেখানে খামারে মুরগি বড় করতেই প্রতি কেজিতে খরচ হয় প্রায় ৮০ টাকা।
No comments:
Post a Comment