স্মার্টফোনের সবচেয়ে ভঙ্গুর অংশ হচ্ছে ডিসপ্লে । সাধারণ স্মার্ট ফোনের ডিসপ্লে হাত থেকে পড়লে সহজেই ভেঙে যায়। এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতেই বর্তমানে বেশ কয়েক বছর যাবৎ বিভিন্ন ফোন কোম্পানি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিসপ্লে তে কর্নিং গরিলা গ্লাস নামক এক প্রকার গ্লাস ব্যবহার করছে। এই গরিলা গ্লাস গুলো সাধারণ কাচের থেকে অনেক বেশি শক্ত ও মজবুত।
গরিলা গ্লাস কি?
অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে গরিলা গ্লাস কি এটা কেন এত শক্তিশালী হয়। মূলত গরিলা গ্লাস হলো কর্নিং ইনকর্পোরেটেড নামক একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতকৃত এক ধরনের বিশেষ গ্লাস। এই কোম্পানিটি সর্বপ্রথম আমেরিকাকে প্রতিষ্ঠিত হয় 1857 সালে পরবর্তীতে এর নাম চেঞ্জ করে করনিং ইনকর্পোরেটেড হয়েছে । আমেরিকার পাশাপাশি তাইওয়ান এবং জাপানেও তাদের ক্লাস তৈরি রিসার্চ সেন্টার আছে।
গরিলা গ্লাস কতটা শক্তিশালী
গরিলা গ্লাস কি এটা জানার পর খুব সহজেই প্রশ্ন আসে গরিলা গ্লাস কতটা শক্তিশালী। গরিলার নামক প্রাণীর প্রচুর শক্তিশালী হওয়ার কারণেই হয়তো এ গ্লাস এর নাম দেয়া হয়েছে গরিলা গ্লাস। সত্য বলতে গরিলা গ্লাস যে একেবারেই ভাঙে না তা নয় তবে এটা সাধারণ ডিসপ্লে গ্লাস এর চেয়ে অনেক বেশী মজবুত হয়। সর্বশেষ ষষ্ঠ প্রজন্মের গরিলা গ্লাস 1 মিটার উঁচু থেকে সমতল জায়গায় পরপর 15 বার ড্রপ টেস্ট এর পরেও স্যাম্পল অক্ষত ছিল । গরিলা গ্লাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এই প্রজন্মের গরিলা গ্লাস কে আগের গরিলা গ্লাস গুলোর চেয়ে দ্বিগুণ মজবুত বলে দাবি করেন।
গরিলা গ্লাস কিভাবে তৈরি হয়
গরিলা গ্লাস কি পরিমান মজবুত তা তো আপনি জেনে গেছেন। এবার আলোচনা করছি গরিলা গ্লাস কিভাবে তৈরি হয়। টেকনিক্যালি বললে বলতে হবে গরিলা গ্লাস হচ্ছে এক ধরনের এলুমিনোসিলিকেট । গরিলা গ্লাস মূলত তৈরি হয় বালু ভিত্তিক এবং এ্যালুমিনিয়াম সিলিকন অক্সিজেন এর কম্পোজিশনে তৈরি রাসায়নিক যৌগের মাধ্যমে। তৈরীর সময় গ্লাস তৈরি করার পর একে 400 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলিত সল্ট বাতে রাখা হয় এই তাপমাত্রায়আয়ন এক্সচেঞ্জ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণের বড় বড় পটাশিয়াম গুলো গ্লাসে প্রবেশ করে গ্লাসের ছোট ছোট সোডিয়াম আয়নকে বাইরে বের করে দিয়ে জায়গা দখল করে। এ প্রক্রিয়াটির ফলে লাস্টের ঘনত্ব অনেক বেশি বেড়ে যায়। এবং গরিলা গ্লাস এত শক্তিশালী হওয়ার পেছনের মূল কারণ এটি।
No comments:
Post a Comment