পাশাপাশি এদিন নানা প্রান্ত থেকে অভিযোগ এসেছে বাসভাড়ার নামে কার্যত লুঠ শুরু হয়েছে। বাসে উঠলেই ১০টাকা আর মিনিবাসে উঠলেই ১২টাকা গুনতে হচ্ছে। অধিকাংশ স্তরে আবার টিকিটই দেওয়া হচ্ছে না। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বাস মালিকদের সংগঠনের পক্ষে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত দায় ঝেড়ে ফেলেছন। তিনি জানান, বিষয়টি ঠিক জানতাম না। সংবাদমাধ্যমের কাছে শুনেছি। ব্যবস্থা নেব। সরকারের নির্দেশমতো আমরা অতিরিক্ত ভাড়ার পক্ষপাতি নয়।
গত সোমবার রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠনের সদস্যরা। সেই বৈঠকের পরে বাস মালিকেরাই জানিয়েছিলেন, তাঁরা পুরাতন ভাড়াতেই রাস্তায় বাস নামাচ্ছেন তবে এবার থেকে বাস ভাড়ার বিষয়টি দেখবে নবগঠিত রেগুলেটরি কমিটি। সেই সঙ্গে শুভেন্দুবাবুও জানিয়েছিলেন পুরনো ভাড়াতেই রাস্তায় বাস নামাবেন বেসরকারি বাসের মালিকেরা। সেই সঙ্গে তিনি এটাও জানিয়েছিলেন রাস্তায় কেউ বেশি ভাড়া নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
অথচ গতকাল থেকেই যাত্রীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার সামনে দাঁড়াচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ কলকাতা ও আশেপাশের জেলায় বাসে উঠলেই দিতে হচ্ছে ১০ টাকা ভাড়া। মিনিবাসে উঠলেই গুনতে হচ্ছে ১২ টাকা ভাড়া। অথচ এখন বাসের ক্ষেত্রে নূন্যতম ৭ টাকা ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে নূন্যতম ৮ টাকা ভাড়া। এই ভাড়াতেই বাস বা মিনিবাসে এখন ভাড়া নেওয়া উচিত। অথচ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর সবকিছু জেনেও চুপ করে রয়েছে বাস মালিকদের সংগঠন। তাঁরাই এতে মদত দিচ্ছে।
যাত্রীরাই জানিয়েছেন, বাসের ক্ষেত্রে উঠলেই যেমন ১০টাকা দিতে হচ্ছে তেমনি তার পরের স্টেজগুলিতে দিতে হচ্ছে ১২ টাকা, ১৫ টাকা, ১৮ টাকা ও ২০ টাকা। অথচ কোন স্টেজ কোথা থেকে কতটা তার কোনও চার্টও নেই। মিনিবাসের ক্ষেত্রে উঠলেই দিতে হচ্ছে ১২টাকা। পরের স্টেজগুলিতে নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, ২০ টাকা, ২৫ টাকা। তাঁদের কাছেও থাকছে না কোনও চার্ট। সব থেকে বড় কথা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিলছে না টিকিট।
আর তা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কন্ড্রাক্টরদের বিবাদ যেমন বাঁধছে ঠিক তেমনি বেশ কিছু যাত্রী ভোগান্তির কথা ভেবে মুখ বুজে তা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সব দেখেশুনে তাঁরা নিজেরাই জানাচ্ছেন, করোনার সুবিধা নিয়ে কার্যত গলাকাটা দরে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বেসরকারি বাস ও মিনিবাসে। ভাড়া নেওয়ার নামে কার্যত লুঠ চলছে। এই নিয়ে দফতরের কর্তারাও খোঁঁজ নিচ্ছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারওকেই ছাড়া হবে না। কারণ, সরকারের নিয়ম ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে এই কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু তপনবাবু জানিয়েছেন, যাত্রীরাই নাকি বেশি ভাড়া দিচ্ছেন। চালক-কনডাক্টটরদের বলা হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে। যদি এরকম কিছু হয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
No comments:
Post a Comment