09 June 2020

কেমন চলছে অনলাইনে পড়ালেখা।


আমাদের দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য অভিজ্ঞতাটা নতুন বলা চলে। করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সরকারি নির্দেশনায় বন্ধ আছে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাই অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ফেসবুক গ্রুপ থেকে শুরু করে গুগল ক্লাসরুম, জুম, ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, হ্যাং–আউট নানা কিছুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন শিক্ষকেরা। শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা কেমন, জানতে মুঠোফোনে ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে আমরা কথা বলেছিলাম বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পাওয়া গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ক্যাম্পাস বন্ধের কিছুদিন পরই অনলাইন পাঠদান শুরু করেছেন ঢাকার সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বেশ কয়েকজন শিক্ষক। গুগল ক্লাসরুম ও হ্যাং–আউটের মাধ্যমে অনেক শিক্ষক অনলাইনে পড়াচ্ছেন। উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র সাজিদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমরা যাঁরা মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আছি, তাঁরা অনেকেই একসঙ্গে চাকরি ও পড়াশোনা করছি। এর মধ্যে করোনার কারণে সেশন জটের সৃষ্টি হলে আমাদের কর্মজীবন আর শিক্ষাজীবন দুটোতেই ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। কিন্তু অনলাইনে ক্লাস হওয়ার কারণে সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে।’

অনলাইনে ক্লাসের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হয়েছিল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র মুনতাসির লিমনের কাছে। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের দশম সেমিস্টারের এই ছাত্র জানান, নিয়মিত অনলাইনে তাঁদের তত্ত্বীয় ক্লাসগুলো হচ্ছে। লাইভ ও আগে থেকে ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে ক্লাস করছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে ক্লাস করার তুলনায় অনলাইন ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম বলে জানান তিনি। তবে যেহেতু সরাসরি ও ধারণ করা ভিডিওগুলো অনলাইনে থাকে, তাই কেউ নির্ধারিত সময়ে ক্লাস করতে না পারলেও পরে ভিডিওতে পুরো লেকচার দেখে নিতে পারে।

ইন্টারনেটের ধীরগতি কিংবা উচ্চমূল্যের কারণে ক্লাসের সঙ্গে তাল মেলাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, এমন অভিজ্ঞতার কথাও বললেন কেউ কেউ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকের বাড়ি এমন প্রত্যন্ত এলাকায়, যেখানে ঘরে ঠিকমতো মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কই থাকে না, দ্রুতগতির ইন্টারনেট তো সেখানে কল্পনাতীত ব্যাপার। তাই বাধ্য হয়েই তারা ঘর থেকে বেরিয়ে মাঠে বসে ক্লাসে করছে। বাইরে এসেও মাঝেমধ্যেই তাদের সংযোগ কেটে যায়। ফলে লেকচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো মিস করছে অনেকে।’

ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য নিয়ে আফসোসের কথা বললেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শবনম মোস্তারী। তিনি জানান, এক গিগাবাইট ইন্টারনেট প্যাকেজ দিয়ে সর্বোচ্চ দুটি অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন তিনি। ফলে গড়ে প্রতিদিন দু–তিনটি ক্লাসের জন্য প্রায় এক থেকে দেড় গিগাবাইট ইন্টারনেট কিনতে হয় তাঁকে। তাঁর মতে, প্রতিদিন এক থেকে দেড় গিগাবাইট ইন্টারনেটের প্যাকেজ কেনা অনেকের জন্য বেশ ব্যয়বহুল। শবনম যোগ করলেন, ‘ইন্টারনেটের প্যাকেজ কিনতে হলে ফোনে টাকা ভরতে হয়। দেখা যায় একসঙ্গে অনেক টাকা ভরে রাখলে ইন্টারনেট প্যাকেজ শেষ হয়ে গেলে ফোনের টাকাও শেষ হয়ে যায়। তখন আবার টাকা ভরার জন্য বাসা থেকে বেরোতে হয়। মোবাইল ফোন সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আমাদের জন্য এই সময়ে একটা সহজ কোনো পদ্ধতি রাখত, তাহলে ভালো হতো।’

এদিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্রী মাহলাকা মুর্শেদ বলেন, করোনা–আতঙ্কের মধ্যে অনলাইনে ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছিলেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তো আছেই। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে অনলাইন ক্লাস বন্ধ রেখেছে অধিকাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও।

শারীরিক শিক্ষা ও তার ভুমিকা


১। ভূমিকা

অঙ্গ সঞ্চালন ও খেলাধুলা শিশুর সহজাত প্রবৃত্তি। স্বাধীনভাবে দৌড়াদৌড়ি ও খেলাধুলা করে সে প্রচুর আনন্দ অনুভব করে। সুযোগ ও অবসর পেলেই সে খেলায় মেতে ওঠে। খেলাধুলার প্রতি শিশুর এ স্বাভাবিক ও অফুরন্ত আগ্রহকে সুষ্ঠুভাবে ও সঠিক পথে পরিচালনা করে তাকে ব্যক্তি ও সমাজের কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। শারীরিক শিক্ষা ব্যতিরেকে শিশুর দেহ ও মনের সার্বিক বিকাশ সম্ভব নয়। তাই শারীরিক শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

‘সুস্থ দেহে সুন্দর মন’ সুখী জীবনযাপনের জন্য অত্যাবশ্যক। সুস্থ মনের অধিকারী স্বাস্থ্যবান মানুষই নাগরিক দায়িত্ব ও ধর্মীয় বিধিবিধান ভালভাবে পালন করতে পারে। তাই সুন্দর ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ‘শারীরিক শিক্ষা’ অপরিহার্য।

ব্যবহারিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির সাথে সাথে শিশুর স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ ও স্বাস্থ্য গঠনের জন্য ব্যায়াম, খেলাধুলা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, চিত্তবিনোদন ও সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করে প্রাথমিক শিক্ষার ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়টির অর্জন উপযোগী ও প্রান্তিক যোগ্যতা চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য রক্ষা সম্পর্কে সমাজ সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়নেও যাতে এই বিষয়ের পঠন-পাঠন কাজে লাগে- সে দিকটিও বিবেচনা করা হয়েছে। শিশুর ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুণাবলি, যেমন- শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, শিষ্টাচার, দলনেতার প্রতি আনুগত্য, শ্রমের প্রতি মর্যাদা ইত্যাদি বিকাশের দিকে সমধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা শারীরিক শিক্ষার নির্ধারিত প্রান্তিক যোগ্যতার (জ্ঞান, দক্ষতা ও বাঞ্ছিত দৃষ্টিভঙ্গি) কোন শ্রেণীতে কতটুকু অর্জন করতে পারবে তৎজন্য একটি আবশ্যকীয় ‘শিখনক্রম’ রচনা করা হয়েছে।

আশা করা হয়েছে যে, এই শিখনক্রম অনুসরণে অনুশীলনের মাধ্যমে বিষয়টির পঠন-পাঠন পরিচালনা করা হলে শিশুরা এ বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও বাঞ্ছিত দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগাতে পারবে এবং এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষা সার্থকরূপ লাভ করবে।

২। উদ্দেশ্য

ক)        শিশুর দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে সুসমন্বিত ব্যক্তিত্ব গঠন করা।

খ)         বহুবিধ শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে শিশুর সহজাত শারীরিক দক্ষতা ও সম্ভাবনাময় প্রতিভার উন্মেষ ঘটানো।

গ)         দক্ষতার সঙ্গে অঙ্গ সঞ্চালন ও নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম কলাকৌশল অর্জনে সাহায্য করা।

৪৩২

ঘ)         শিক্ষার্থীর শারীরিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা দান।

ঙ)         শিশুর মনে সৎসাহস ও দলীয় একাত্ববোধ জাগানো।

চ)         খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্রাম ও আনন্দ উপভোগে উৎসাহী করা।

ছ)         শিশুর পর্যবেক্ষণ ও বিচার ক্ষমতার উন্মেষ ঘটানো।

জ)        শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সামাজিক কর্তব্যবোধ ও দেশাত্ববোধ জাগ্রত করা।

ঝ)        শিশুর কল্পনা, উদ্ভাবন ও সৃজন শক্তির বিকাশ ঘটানো।

ঞ)       শিশুর মানসিক সচেতনতা তীক্ষ্ম করা।

ট)         জাতির ঐতিহ্য ও কৃষ্টির প্রতি মর্যাদাবোধ জাগানো।

৩। প্রান্তিক যোগ্যতা

১)         স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গঠন করা এবং পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা।

২)         খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও ব্যায়ামের নিয়মাবলি জানা ও বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা।

৩)        চিত্ত বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা।

৪)         শৃঙ্খলাবোধ, একাত্ববোধ, নেতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নেতার আদেশ মেনে চলা, সহনশীলতা প্রদর্শন ও নেতৃত্বদানের গুণ অর্জন করা।

৫)         সুস্থ দেহ ও মন গঠনের জন্য পরিমিত ঘুম, ব্যায়াম, খেলাধুলা, বিশ্রাম ও বিনোদনের গুরুত্ব বুঝা এবং এ সম্পর্কিত নিয়মাবলি মেনে চলা।

৬)        দেহগঠনে ও স্বাস্থ্য রক্ষায় সুষম খাদ্যের গুরুত্ব বুঝা এবং এরূপ খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করা।

৭)         দৈনন্দিন জীবনে দুর্ঘটনা এড়াবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানা ও বাস্তবে মেনে চলা।

৮)        প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানা ও বাস্তবে কাজে লাগাতে পারা।

08 June 2020

টিকটক ভিডিও শুট করতে গিয়ে বিপত্তি, জলে ডুবে মৃত্যু কিশোরের।

রায়গঞ্জ: নাচের ভিডিও তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি। জলে ডুবে মৃত্যু কিশোরের। উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নদীর পাড়ে নাচের মহড়া দিতে গিয়েই বিপত্তি। পা পিছলে নদীর জলে পড়ে যায় কিশোর। জলে ডুবেই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

হেমতাবাদের ভাসিডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের নাচের ভিডিও আপলোড করবার ইচ্ছা ছিল হেমতাবাদের বিপুল সরকারের। সেই মতো কুলিক নদীর ধারে গিয়ে নাচের মহড়া দিচ্ছিল ওই কিশোর।

হঠাৎই পা পিছলে নদীর জলে তলিয়ে যায় বিপুল। সেই সময় নদীর পাড়ে ছিল কিশোরের বেশ কয়েকজন বন্ধুও। চেষ্টা করেও তারা বিপুলকে বাঁচাতে পারেনি বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় কিশোরের মৃতদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিন-চার জন কিশোর ভাসিডাঙ্গার ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। টিকটক ভিডিও তৈরির চেষ্টা করছিল তারা। সেই সময় পা হড়কে নদীর জলে পড়ে যায় ওই কিশোর। নদী থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধারের পর তড়িঘড়ি তাকে স্থানীয় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় পুলিশ।

চিকিৎসকরা বিপুল সরকার নামে ওই কিশোরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিশোরের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস: কোভিডের টিকা ও বিল গেটসকে নিয়ে এত ষড়যন্ত্র তত্ত্বের নেপথ্যে কী?

২০১৫ সালে ভ্যাংকুভারে টেড (টেকনোলজি, এন্টারটেইনমেন্ট, ডিজাইন) কনফারেন্সে হাজির হলেন বিল গেটস। তার হাবভাব দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনিই বিল গেটস। সম্মেলন থেকে তিনি এক চরম হুঁশিয়ারি দিলেন।

সম্মেলনে তিনি বললেন,“আগামী কয়েক দশকের মধ্যে যদি কোন কিছুর কারণে এক কোটি মানুষ মারা যায়, সেটি কোন যুদ্ধের ফলে নয়, বরং কোন সংক্রামক ভাইরাসের কারণে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।”

তার এই দূরদর্শী বক্তব্য সেসময় বিবিসি সহ কিছু সংবাদ মাধ্যমে প্রচার পেয়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ তার কথায় খুব একটা কান দেননি।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির পর তার সেই বক্তৃতা লোকে শুনেছে অন্তত ৬ কোটি ৪০ লক্ষ বার। বেশিরভাগ মানুষের আগ্রহ বিল গেটস কি বলেছেন সেটাতে নয়, কেন তিনি এমনটি বলেছিলেন, সে বিষয়ে।

বিল গেটসকে নিয়ে নানা বিতর্ক আছে। অনেকের অভিযোগ, বিল গেটস আসলে বিশ্বের এলিট বা সুবিধাভোগী শ্রেণীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য কিছু মানুষের বিশ্বাস, বিল গেটস আসলে পৃথিবীকে জনশূন্য করার চেষ্টা করছেন।

আবার অন্য একদল আছেন, যাদের অভিযোগ, বিল গেটস টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক করছেন। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে অভিযোগ তুলছেন, বিল গেটস সব মানুষের শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দিতে চান।


‘জাদুর পুতুল‌’ বিল গেটস

রোরি স্মিথ ‘ফার্স্ট ড্রাফট নিউজ’ নামের এক ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্য যাচাইকারি ওয়েবসাইটে কাজ করেন। তিনি বলছেন, বিল গেটসকে নিয়ে বহু রকমের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হয়েছে।

‍“তিনি এমন এক জাদুর পুতুল, যাকে নানা ধরণের গোষ্ঠী তাদের হরেক রকমের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে খুঁচিয়ে চলেছে। আর তিনি যে জাদুর পুতুলে পরিণত হয়েছেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে করতে তিনি এর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।”

করোনাভাইরাসের সঙ্গে বিল গেটসকে জড়িয়ে যেসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো গত ফেব্রুয়ারি হতে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে টেলিভিশন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্তত ১২ লক্ষ বার উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমীক্ষাটি চালিয়েছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং জিগনাল ল্যাবস।

এরকম ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো সাধারণত ফেসবুক গ্রুপে ছড়ানো হয়, এরপর সেগুলো শেয়ার করা হয় লক্ষ লক্ষ বার।

ফার্স্ট ড্রাফট নিউজ দেখেছে, টিকটক নামের চীনা ভাইরাল ভিডিও সাইটটি এধরণের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের নতুন আখড়া হয়ে উঠেছে।

বিল গেটসকে নিয়ে যতরকমের আজগুবি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব চালু আছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে বিবিসির এন্টি-ডিসইনফরমেশন বা ভুয়া তথ্য বিরোধী টিম।

  • এরকম তত্ত্বের মধ্যে একটি হচ্ছে, ‘বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ আফ্রিকা এবং ভারতে শিশুদের ওপর টিকা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে। এর ফলে সেখানে হাজার হাজার শিশু হয় মারা গেছে, নয়তো অপূরণীয় শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। একটি পোস্টে তো এমন দাবিও করা হয়েছে যে এ কারণে ভারতে বিল গেটসের বিচার চলছে।
  • বিল গেটসের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, কেনিয়ায় তিনি এক টিটেনাসের টিকা চালু করেছেন যার মধ্যে আসলে আছে গর্ভপাতের ঔষধ।
  • ‘দ্য নিউ আমেরিকান ম্যাগাজিন‌’ বলে এক ওয়েবসাইটের ফেসবুক পাতায় একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এখানেও সেই একই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব- বিল গেটস টিকা আর গর্ভপাতের মাধ্যমে বিশ্বকে মানবশূন্য করতে চাইছেন। এটিতে আবার বিল গেটসের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির গাঁটছড়া আছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ভিডিও শেয়ার হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার বার এবং দুই লাখ বারের বেশি এটি দেখা হয়েছে।
  • এদিকে আবার আরেকটি ভিডিওতে অভিযোগ করা হচ্ছে বিল গেটস মানুষের শরীরে মাইক্রোচিপ ঢোকাতে চান। ইউটিউবে এই ভিডিওটি বিশ লাখ বার দেখা হয়েছে।

বিল গেটস কেন টার্গেট

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যিনি কীনা তার নিজের এবং স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের জন্য শত শত কোটি ডলার ঢেলেছেন, তিনি কিভাবে কোভিড-১৯ ষড়যন্ত্র তত্ত্বকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেন?

ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জোসেফ উসিনস্কি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সম্পর্কে বেশ কিছু বই লিখেছেন। তার মতে, বিল গেটস ধনী এবং বিখ্যাত বলেই ষড়যন্ত্রকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন।

‌“বেশিরভাগ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আসলে ক্ষমতাবান লোকদের নিয়েই, তাদের বিরুদ্ধে মারাত্মক কোন কিছুর অভিযোগ আনা হয়‌”, বলছেন তিনি। “আর ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো প্রায় একই রকম, শুধু নামগুলো বদলে যায়।”

“বিল গেটসের আগে ছিল জর্জ সোরোস, কিংবা রথচাইল্ডস বা রকেফেলারদের নাম।”

বেশিরভাগ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মৃত্যু ঘটে আসলে খুব বেশি ডালপালা গজাবার আগেই। তবে কিছু টিকে থাকে। সাধারণত যেসব তত্ত্বে ভিলেনরা থাকে খুব বড় কেউ এবং যে ইস্যুতে মানুষের খুব বেশি আগ্রহ থাকে, সেরকম ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো বেশ দীর্ঘ আয়ু পায়।

জোসেফ উসিনস্কি বলেন, “ধনী লোকজন এবং বড় কর্পোরেশনগুলোর বিরুদ্ধে মানুষের শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের এই যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, এর কারণ এরকম আশংকা আমাদের মধ্যে আছে।”

“এরকম ভয় বা আশংকা আসলে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের এক বিরাট মশলা।”

জোসেফ উসিনস্কি মনে করেন এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই, কিন্তু তারপরও মানুষ এগুলো বিশ্বাস করতে পছন্দ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক চতুর্থাংশ মানুষ এবং ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকান বিশ্বাস করে বিল গেটস কোভিড-১৯ টিকা ব্যবহার করে মানুষের চামড়া নিচে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দিতে চায়। এই জরিপটি চালিয়েছিল ইয়াহু নিউজ এবং ইউগভ।

কোন ষড়যন্ত্র তত্ত্বে হয়তো একদানা সত্য আছে, যেটিকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ফাঁদা হয়েছে।

যেমন, বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন গত বছর একটি গবেষণার জন্য তহবিল দিয়েছিল, যেটি চালিয়েছিল ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। কোন রোগীর টিকা নেয়ার রেকর্ড বা ইতিহাস বিশেষ কোন রঙের প্যাটার্নের মধ্যে সংরক্ষণ করা যায় কীনা, সেটা দেখা ছিল এই গবেষণার লক্ষ্য। সাদা চোখে এটি দেখা যাবে না এবং এটি টিকা দেয়ার সময় একসঙ্গে মানুষের চামড়ার নীচে ঢুকিয়ে দেয়া যাবে।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের শুরুটা কিভাবে তা অনুমান করা কঠিন। কিন্তু ইন্টারনেট অনেক সহজ করে দিয়েছে এরকম আজগুবি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বহু মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার কাজটি।

“ইন্টারনেট যুগের আগে এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তাদের নিজেদের মধ্যেই আবদ্ধ থাকতো, কিন্তু এখন ইন্টারনেটের বদৌলতে ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তার মানুষ, ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দ্রুত এসব ছড়িয়ে যাচ্ছে। কাজেই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এখন ইন্টারনেটের আগের জমানার চেয়ে অনেক বেশি মূলধারায় চলে আসার সুযোগ পাচ্ছে।”

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিশ্ব মহামারির সময় আরও বেশি বাড়ছে, কারণ মানুষ এখন মনস্তাত্ত্বিকভাবে অনেক বেশি নাজুক অবস্থায় আছে।

তার মতে মানুষ এরকম সংকটের সময় সবার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কোন কিছুর অর্থ বোঝার চেষ্টা করে।

“যে কোন তথ্য পেলেই আমরা তার মানে বোঝার চেষ্টা করি, আর তখনই শুরু হয় গুজব ছড়ানোর কাজ। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তখন এই শূন্যস্থান পূরণ করতে থাকে, বিশেষ করে বিল গেটস জাতীয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।”

বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় এপর্যন্ত ৩০ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। একের পর এক মিথ্যে প্রচার আর ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মুখেও এই ফাউন্ডেশন তাদের কাজের নিয়ে খুবই আশাবাদী।

বিবিসির কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বলেছে, “আমাদের সম্পর্কে অনলাইনে যেসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হতে পারে সেটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

“এরকম একটা সময়, যখন বিশ্ব এক অভূতপূর্ব স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক সংকটের মুখে, তখন কিছু লোক যে এভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, তা খুবই পীড়াদায়ক। অথচ এখন আমাদের সবার উচিত মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সহযোগিতা করা। কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে যে ভালো কাজটা এখন আমরা সবাই করতে পারি তা হলো সঠিক তথ্য প্রচার করা।”

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, তাকে ঘিরে যে এতসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে সেটি জেনে তিনি বিস্মিত।

“এরকম পাগলামি যে চলছে, তা আসলেই যন্ত্রণাদায়ক। আমরা যখন টিকা তৈরি করবো, আমরা চাই মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগ মানুষ এই টিকা নিক। এখন যদি তারা এরকম একটা ষড়যন্ত্রের কথা শোনে এবং লোকে টিকা নিতে না চায় তখন তো এই রোগে মানুষ মরা অব্যাহত থাকবে।”

“আমি একরকম বিস্মিত যে, এসব আমাকে ঘিরেই বলা হচ্ছে। আমরা তো কেবল অর্থ দিচ্ছি, চেক লিখছি.. হ্যাঁ, আমরা চাই শিশুদের যেন রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা করা যায়। কিন্তু এর সঙ্গে তো মাইক্রোচিপ বা সেরকম কিছুর সম্পর্ক নেই। এসব শুনলে মাঝে-মাঝে হাসি পায়।”

07 June 2020

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ, শীঘ্রই করুন আবেদন।

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরে হাজার হাজার পদে কর্মী নিয়োগ করার পথে প্রশাসন। এই মুহূর্তে ১২,০০০-এর বেশি শূন্যপদ রয়েছে স্বাস্থ্য দফতরে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, মেডিক্যাল অফিসার এবং আরও বেশ কিছু শূন্য পদে শীঘ্রই নিয়োগ করা হবে।
তবে সব থেকে ভাল খবর নার্সদের জন্য। যে ১২,০০০ শূন্য পদ রয়েছে তার মধ্যে ৯,৩৩৩ পদেই নার্স নিয়োগ করা হবে। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নেওয়া হবে ৮৩৩ পদে। এ ছাড়াও কমপক্ষে ১,৫০০ জন মেডিক্যাল অফিসারও নিয়োগ করা হবে বলে স্বাস্থ্যদফতর সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে আগেই ৮,০০০ শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেইসব পদে কোনও নিয়োগ হয়নি। সেই পদগুলির সঙ্গেই আরও চার হাজারের মতো পদে নতুন করে লোক নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। তারপরেই ফর্ম জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাই এখন থেকে নিয়মিত দেখুন স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইট। তারপর করুন আবেদন, কে বলতে পারে, হয়তো আপনার ভাগ্যেই লেখা রয়েছে সরকারি চাকরি।

Featured Post

Castle best for movies application

Click this secure link, download the APK https://filmm.me/6CPsrsqM